বয়সের ছাপ দূর করার উপায়

আপডেট: 2020-01-08 21:48:11

আজকাল কাজের চাপ, মানসিক চাপ এবং দেহের সঠিক যত্ন না নেয়ার কম বয়সেও অনেকের মুখে বয়সের ছাপ পড়ে।  সাধারণত ত্বকের চামড়া ঝুলে গেলে বা ভাজ পড়লে বয়সের ছাপ পড়ে গেছে মনে হয়।  অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়ার এই সমস্যায় ভোগেন নারী ও পুরুষ উভয়ই।  বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ঝুলে গিয়ে ধীরে ধীরে বুড়িয়ে যায় মানুষ। শুধু মুখের ত্বক নয় শরীরের অন্যান্য অঙ্গভঙ্গির কারনেও অনেককে বয়স্ক দেখায়। কিছুটা অনুশীলন, কিছু নিয়ম কানুন, কিছু খাদ্যাভ্যাস, কিছুটা সচেতনতা আমাদেরকে সাহায্য করবে বয়সের ছাপকে ঢেকে রাখতে। জেনে নিন কিছু টিপস যা আপনার বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করবে।

মুখে বয়সের ছাপ পড়েছে কিনা তা বুঝার উপায়: ত্বক বারবার রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাবে

  • চোখের নিচের অংশ কুঁচকে যাবে
  • ত্বকে ছোট ছোট কালো তিল দেখা যাবে
  • এ ছাড়া ত্বক পাতলা হয়ে যাবে
  • ত্বকে ছোট ছোট গর্ত দেখা দেবে
  • হাসির সময় চোখের কোনায় ভাঁজ পড়বে
  • চামড়া ঝুলে যাবে ইত্যাদি।

. অঙ্গবিন্যাস সঠিক রাখুন। আপনি পিঠ বাঁকা করে দাঁড়ালে আপনাকে বয়স্ক মনে হবে।  সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং অভ্যাস করুন।  নিয়মিত ব্যায়াম ও পরিচর্চার মাধ্যমে শারীরিক গঠন সুঠাম রাখুন।  এতে বয়স হলেও বোঝা যাবে না।  চেহারার তারুণ্য ভাব বজায় থাকবে।

. মুখের বয়সের ছাপ বা বলিরেখার জন্য প্রধানত দায়ী সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি।  তাই যতটা সম্ভব সূর্যের রশ্মি থেকে দূরে থাকুন।  এছাড়া সানগ্লাস একজন মানুষকে স্টাইলিশ করে দেয়ার পাশাপাশি বয়স কমিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।  চেহারার সাথে মানানসই সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

৩. ঠোঁটের যত্নে সতর্ক হোন।  ঠোঁট শুকনো দেখালে এবং ফেটে থাকলে অথবা কালচে ভাব থাকলে বিশ্রী দেখানোর পাশাপাশি বয়স্ক দেখায়। তাই নিয়মিত ঠোঁটের যত্ন নিন।  ভালো লিপবাম ব্যবহার করুন।  ধূমপান ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টির জন্য দায়ী।  তাই ধূমপান ছেড়ে দিন।
 

৪. যদি ভালো কোনো মানানসই স্টাইলিশ ছাঁটে চুল কাটতে পারেন তবে বয়স অনেক কম লাগবে।  যদি চুল পড়ে টাক হয়ে থাকে তবে একেবারে চুল ফেলে দিন। এতে টাকের তুলনায় বেশ স্টাইলিশ ও কম বয়েসি লাগবে দেখতে।  যদি চুল পেকে সাদা হওয়া শুরু করে তবে চুল রঙ করতে একবারেই পিছপা হবেন না।  সতর্কতার সাথে সকল সাদা চুল ঢেকে ফেলুন।  

৫. সঠিক পোশাক নির্বাচন বয়স অনেকটা কমিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। আপনাকে কোন ধরনের পোশাকে মানাবে এবং কোন রঙে আপনাকে ভালো দেখাবে এই সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। সঠিক পোশাক নির্বাচন করলে বয়স অনেকটা কমে যাবে।

৬. ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে গেলে বয়স অনেক বেশি মনে হয়।  তাই ত্বককে হাইড্রেট ও ময়শ্চারাইজ করুন।  ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পানি পান করুন।  ঘুমানোর সময় পিঠের উপর ভর করে ঘুমান। অনেকেই পেটের উপর ভর দিয়ে ঘুমায়।  এতে চেহারার উপর প্রেশার সৃষ্টি হয়, যা চামড়াকে ঝুলিয়ে দেয়।

৭. ভাজা পোড়া খাবার যত কম খাবেন ততই ভালো। মুখের মধ্যে যতটা সম্ভব কম হাত লাগান। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন। টেনশন থেকে দূরে থাকুন সেই সাথে থাকুন সদা হাস্যজ্জ্বল। সামুদ্রিক মাছ এবং ওমেগা ৩ আছে এমন খাদ্য বেশি করে খান। ওমেগা ৩ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।  আর শাকসবজি ফলমূল তো আছেই।

৮. সপ্তাহে ২ বার পাকা কলা চটকে মুখে গলায় ঘাড়ে লাগান।  শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।  দেখবেন আপনার ত্বক প্রাণবন্ত দেখাবে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা মুখে থাকলে তা অনেকটাই ডাকা পরবে।

৯. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।  আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত যে ক্ষয় হয়, বয়সের যে পরিবর্তন আসে তা মূলত অক্সিডেশনের জন্য। ভিটামিন সি’তে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষাবরণকে মজবুত করে, সহজে ভেঙে যেতে দেয় না। লেবু, কাচা মরিচ, টক জাতীয় যে কোনও ফল ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস।

১০. বেরি জাতীয় রসালো ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা চামড়ার জন্য উপকারী।  সকালে খালি পেটে ঘৃতকুমারীর রস পান করা ভালো।  চামড়ার ভাঁজ কমে আসে। তিল ও সূর্যমুখীর বীজেও আছে প্রচুর ভিটামিন ই।  নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।  মাংস খাওয়া পরিহার করে মাছ খান প্রচুর।

আরো পড়ুন- চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি