স্মরণশক্তি বৃদ্ধির সহজ কিছু কৌশল

আপডেট: 2020-01-05 11:44:48

অনেকেই আছেন যারা কোন ঘটনা বা বিষয়বস্তুর পুঙ্খানুপুঙ্খ চমৎকারভাবে মনে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি মনে করতে পারেন যে আপনার মেধা কম! না, আপনার মেধা অবশ্যই কম না। সবার মস্তিষ্কের গঠন একরকম নয়। তাই সবাই একভাবে মনে রাখতে পারে না। 

কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করে আপানিও আপনার স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন।

১. মানসিক চাপ কমিয়ে বিষন্নতা দূর করুন
মানসিক চাপের মধ্যে বিষন্নতা সবচেয়ে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। বিষন্নতা আপনার মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে এবং রক্তে করটিসলের লেভেল বাড়িয়ে দেয়। করটিসেলের লেভেল বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়।

২। নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ব্যায়াম শুধু আপনার শরীরকেই সচল করে না, এটি আপনার মস্তিষ্ককেও সচল রাখে। স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন আপনার ব্রেইনের জন্যও ক্ষতিকর। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে কিংবা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সচল না থাকলে রক্তবাহী নালীগুলো চর্বি জমে। ফলে স্বাভাবিক রক্তচলাচল ব্যহত হয়। মস্তিষ্কে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবারাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মস্তিষ্কের কোষগুলোও। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন, সচল রাখুন আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো।

৩। মেডিটেশন করুন:

আমাদের মস্তিষ্কের ছোট একটি অংশ সবসময় তৈরি থাকে মনে রাখার মত কিছু হলেই সেটিকে ধরে ফেলতে। একে বলা হয় Working memory। এর কাজ হচ্ছে মনে রাখার মত কোন ঘটনা পেলেই খপ করে ধরে ফেলা আর কিছু সময়ের জন্য জমিয়ে রাখা।

এর মধ্যে যদি তুমি, মানে তোমার মস্তিষ্ক, বুঝতে পারে যে এই ঘটনার প্রয়োজন আছে তাহলে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় স্মৃতি তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে জমিয়ে রাখার জন্য। আর অপ্রয়োজনীয় ঘটনাকে ফেলে দেয়া হয় এখান থেকেই।

মেডিটেশন এই Working memory কে দ্রুত কাজ করতে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মেডিটেশন মানুষের মনে রাখার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

আর পাশাপাশি এটি মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি করে। আর তাই যদি তোমার মনে হয় যে তুমি কোন কিছু মনে রাখতে অর্থাৎ স্মৃতি হিসেবে জমিয়ে রাখতে পারছো না, মেডিটেশন করে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করো। 

৪। অন্যকে শেখান
নিজে যা শিখতে চাচ্ছেন। তা একবার শিখে নিয়ে অন্যকে শেখান। আরজনকে শেখাতে গিয়ে দেখবেন আপনার জানার ঘাটতিগুলো ধরতে পারছেন। আবার চর্চাও হবে আরেক জনকে শেখানোর মাধ্যমে। নতুন কিছু বিষয়ে আপনার কোন চিন্তা আরেকজনের সাথে শেয়ারও করতে পারেন। তাহলে আপনার স্মৃতিতে তা স্থায়ী হবে।

৫। পর্যাপ্ত ঘুম
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। একটা চমৎকার ঘুম আপনার মস্তিষ্ককে অধিক কার্যকরী করে তোলে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পারেন।

৬। ঘুম যখন ভাঙবে:

ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে মস্তিষ্ক সজাগ হওয়ার সময় পায় না। কিন্তু দিনের পুরোটাকে ভালভাবে কাজে লাগানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে কিভাবে আপনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন তার মধ্যে। সবচেয়ে ভাল হয় ঘুমাতে যাওয়ার সময় ঘর অন্ধকার থাকলে, এবং প্রভাতে দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে জেগে উঠতে হয়। সূর্যের কিরণ যখন আপনার বন্ধ চোখের পাতা ভেদ করে ঢুকে পড়ে, তখন সেটা মস্তিষ্ককে কর্টিসল হরমোন ছড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে আপনি জেগে ওঠেন। তাই কী পরিমাণ কর্টিসল হরমোন আপনার দেহে ছড়িয়ে পড়ে, তার ওপর নির্ভর করবে দিনটা আপনার কেমন যাবে।

৭। বিপরীত হাত ব্যবহারের অভ্যাস

আমরা যখন ডান হাত দিয়ে কোনো কাজ করি, তখন আমাদের ডান পাশের ব্রেন কাজ করে। বাম পাশের ব্রেন কোনো কাজ করতে পারে না। তাই স্মরণশক্তি বাড়াতে বাম হাতের ব্যবহার শুরু করুন। যেমন: বাম হাত দিয়ে ব্রাশ করা, কোন কিছু লেখা ইত্যাদি। প্রথম প্রথম অসুবিধা হলেও নিয়মিত চর্চা করলে অভ্যাস হয়ে যাবে। এছাড়াও সম্প্রতি আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব মানুষের চুইংগাম খাওয়ার অভ্যাস থাকে তারা অন্যান্যদের  তুলনায় বেশি স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয়ে থাকেন। চুইংগাম খাওয়ার সময়ে নড়তে থাকা মুখমণ্ডলের হাড় ও মাংসপেশী মস্তিষ্কের ৮ টি অংশকে নাড়াতে পারে। এক্ষেত্রে মাত্রাটা হয়তো খুব একটা বেশি নয়। তারপরও মানুষকে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি স্মৃতিশক্তির অধিকারী করে তোলে চুইংগাম। তাই বলে আবার ক্লাসরুম কিংবা অফিসে চুইংগাম মুখে রাখবেন না যেন!