‘সেটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কাজ’

আপডেট: 2018-11-29 13:44:46

অনেকদিন বড় পর্দা থেকে দূরে থাকলেও আবার নতুন ছবির কাজ শুরু করছেন ঢালিউডের মিষ্টিমুখ পূর্ণিমা। ছবির নাম ‘জ্যাম’। পরিচালনা করবেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল। প্রয়াত নায়ক মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি ফিল্মস থেকে নির্মাণ হবে ছবিটি। সেই ছবিসহ বেশ কিছু বিষয়ে কথা হলো এই অভিনেত্রীর সঙ্গে। নতুন এই ছবিটি নিয়ে পূর্ণিমা বলেন, আগামী ৫ই ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় এ ছবির শুটিং শুরু হবে। বলতে গেলে ‘জ্যাম’ দিয়েই চলচ্চিত্রের কাজে আবারো ফিরছি। ঢাকাতে একটি বাড়ির ভেতরে কিছু কাজ হবে।

এ ছাড়া শুটিংয়ের বাকি পরিকল্পনা পরিচালক বলতে পারবেন। পূর্ণিমা আগেই জানিয়েছিলেন ‘জ্যাম’ ছবিটি ভিন্ন ধরনের। এর গল্প কোনো নায়ক-নায়িকানির্ভর বা নাচ-গানে ভরপুর নয়। এটা একটা সুন্দর গল্পের ছবি। এ ছবিতে ফেরদৌস, আরিফিন শুভসহ অনেক তারকা অভিনয় করবেন। পূর্ণিমা বলেন, কৃতাঞ্জলির শেষ ছবি ‘পিতামাতার আমানত’-এ মান্না ভাই ও আমি অভিনয় করেছিলাম। ছবিটি তিনি মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। সেটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কাজ। মান্না ভাইয়ের স্ত্রী শেলী ভাবি আমাকে খুব আদর করেন। পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই মান্না ভাইয়ের ওপর শ্রদ্ধা ও শেলী ভাবির ভালোবাসার জোরেই আবার আমরা নতুন পরিকল্পনা শুরু করেছি। আবার কাজে ফিরছি।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের লেখা ‘গাঙচিল’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ পরিকল্পিত একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করতে যাচ্ছেন পূর্ণিমা। এ ছবিতে ফেরদৌসের বিপরীতে অভিনয় করবেন তিনি। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য স্কুটি চালানো শিখতে হচ্ছে পূর্ণিমাকে। এজন্য ফেরদৌস তাকে সহযোগিতাও করছেন। ছবিতে পূর্ণিমা এনজিওকর্মী আর ফেরদৌস সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করবেন। ফেরদৌসের চরিত্রের নাম সাগর আর পূর্ণিমার মোহনা। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দাদের জীবনের নানা ঘটনা এই ছবির প্রধান উপজীব্য। এই অঞ্চলে এনজিওকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পূর্ণিমা। নিজের চরিত্র দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত করে তুলতে সময় বের করে স্কুটি চালানো শিখছেন। পূর্ণিমা বলেন, মাঝে কয়েকদিন স্কুটি চালানোর প্র্যাকটিস করেছি। এখনো পুরোপুরি আয়ত্ত হয়নি। শুটিংয়ের আগে আবার স্কুটি চালানো প্র্যাকটিস করবো। ‘জ্যাম’-এর কাজ তো সামনেই শুরু করবো। আর নির্বাচনের পর শুরু করবো ‘গাঙচিল’-এর শুটিং।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ। আপনার উপস্থাপনায় আরটিভিতে ‘এবং পূর্ণিমা’ অনুষ্ঠান থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এর উত্তরে পূর্ণিমা বলেন, এই অনুষ্ঠানটি দর্শকরা বেশ পছন্দ করেছে। আর আমারও কাজটি করে খুব ভালো লেগেছে। প্রচারের পর দর্শকদের বেশ সাড়া পেয়েছি। এদিকে এ কাজের বাইরে দুটি রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন পূর্ণিমা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, চ্যানেল আইয়ের ‘কে হবে মাসুদ রানা’ এবং ভিডিও কনটেন্ট নির্মাতা খোঁজার রিয়েলিটি শো বাংলালিংকের ‘নেক্সট টিউবার-সিজন টু’-এর বিচারক হিসেবে কাজ করছি। দুটি অনুষ্ঠান দুই ধরনের। দুটিতেই বিচারক হিসেবে অংশ নিয়ে বেশ ভালো লাগছে। ‘নেক্সট টিউবার-সিজন টু’ নিয়ে জানতে চাইলে পূর্ণিমা বলেন, এখানে যারা অংশ নিচ্ছেন তারা প্রত্যেকেই ট্যালেন্টেড। বিশেষ করে কেউ ক্যামেরার কাজ, কেউ সিনেমেটোগ্রাফি, আর কেউবা দুর্দান্ত অ্যাকটিং করছেন। সব মেধাবী ছেলেমেয়ে আসছেন এই প্রতিযোগিতায়। পড়াশোনার পাশাপাশি বাজে কোনো নেশার অভ্যাস না করে ভালো একটা কাজ শিখছেন তারা। এ বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে। কবে শেষ হবে এই দুটি রিয়েলিটি শো? জবাবে পূর্ণিমা বলেন, দুটি অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড ফিনালে হবে ডিসেম্বরে। বলতে গেলে দুটি রিয়েলিটি শোরই ৬-৭টা পর্ব বাকি। আমি দুটি শোর বিচারক হিসেবে প্রতিটি পর্বই বেশ উপভোগ করেছি।