এই সময়ে নাক, কান ও গলার সমস্যা ও সমাধান

আপডেট: 2019-01-19 15:33:43

অ্যালার্জিজনিত নাকের সর্দি ও পলিপ :

শীতকালে প্রচুর ধুলাবালি উড়তে দেখা যায়। যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে, তাদের এ সময় নাকে ধুলাবালি প্রবেশ করে অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ হতে পারে। এতে নাকে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। সে জন্য ঘর থেকে বের হলে মুখে রুমাল ব্যবহার করা উচিত। না হলে পরবর্তীতে এ থেকে সাইনাসের প্রদাহ বা সাইনোসাইটিসও হতে পারে। নাকে বহুদিন ধরে অ্যালার্জি থাকলে পলিপ হতে পারে। ফলে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং সাইনাসের সমস্যার কারণে মাথাব্যথার সমস্যা দেখা যেতে পারে। আধুনিক এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে অপারেশন করে এটির স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।

সাইনাসের প্রদাহ বা সাইনোসাইটিস :

শীতকালে অনেকের সাইনোসাইটিসের সমস্যা দেখা যায়, যার ফলে নাকের দুই পাশে, কপালে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং মাথা ভারী বোধ হতে পারে। এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। যাদের ঠাণ্ডার সমস্যা আছে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। যদি সংস্পর্শে এসে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন। আপনি যদি ধূমপায়ী না হয়ে থাকেন তবে কর্ম ক্ষেত্রে ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। গরম পানির ভাপ নিলে এবং কিছু ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদি সাইনাস প্রদাহে ওয়াশ এবং শেষ পর্যায়ে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি করা লাগতে পারে।

শীতে হঠাৎ নাকে রক্তপাত :

নাকে রক্তপাতের অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। যেমন- আঙ্গুল দিয়ে নাক খোঁচানোর কারণে কিংবা হাই ব্যাড প্রেসারের কারণে কিংবা অতিরিক্ত ঠাণ্ডাতে রক্তনালি শুকিয়ে ছিঁড়ে রক্তপাত হতে পারে। আরও অনেক কারণেও হতে পারে। শীতকালে আমরা সবাই পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করি। এই জেলি নাকে ব্যবহার করলে খুব সহজেই মুক্তি মেলা সম্ভব।

শিশুদের মধ্যকর্ণে প্রদাহ :

সাধারণত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির প্রদাহ, টনসিলের ইনফেকশন, এডিনয়েড নামক গুচ্ছ লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে শিশুদের মধ্যকর্ণে প্রদাহ দেখা যায়। শীতকালে এই উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়। সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিৎসা না করলে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কান পাকা রোগ হতে পারে। একটু যত্ন বান হলেই এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে, শিশুরা যেন কোনোভাবেই ধূমপানের সংস্পর্শে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, শোয়ানো অবস্থায় শিশুকে খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে, Pneumococcal ভ্যাক্সিন ও দিতে পারেন।

অ্যাজমা বা হাঁপানি :

শীতকালে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীদেরও নিয়মিত ওষুধ নেওয়া ও ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। কারণ সর্দি, অ্যালার্জি ও হাঁপানির মধ্যে যোগসূত্র আছে। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। ঠাণ্ডা লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। যাতে প্রথমেই রোগ ভালো হয়ে যায় এবং বিভিন্ন জটিলতা থেকে মুক্তি মেলে।

সতর্কতা ও করণীয় :

শীত সমাগত। ঘুম থেকে উঠলেই দেখা যায় প্রকৃতি কুয়াশাচ্ছন্ন, আর সবুজ ঘাসে জমে আছে বিন্দু বিন্দু শিশির। অনেক সময় প্রকৃতি সাজে অপরূপ সৌন্দর্যে, পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। শীতকাল উপভোগ্য হলেও দেখা দিতে পারে বাড়তি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে কম তাপমাত্রার সংযোজন আর ধুলাবালির উপদ্রব, সব মিলিয়েই সৃষ্টি করে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তার জন্য প্রয়োজন কিছু সতর্কতা।